ছবি: প্রতিনিধি
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার এক দরিদ্র পরিবারের সাত বছরের শিশু তানিয়া বিরল এক চর্মরোগের সঙ্গে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। যে বয়সে তার খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই তাকে সহ্য করতে হচ্ছে অসহনীয় ব্যথা ও চুলকানি। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা, যা তার দিনমজুর বাবার পক্ষে জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব।
জানা গেছে, নাজিরপুর উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের লেবু জিলবুনিয়া গ্রামের মো. আল-আমিন হাওলাদারের মেয়ে তানিয়া জন্মের পর থেকেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। শুরুতে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানো হলেও ধীরে ধীরে অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে খুলনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তানিয়া একটি বিরল ও জটিল চর্মরোগে আক্রান্ত। তার সুস্থতার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও উন্নত চিকিৎসা জরুরি।
বর্তমানে তানিয়ার মুখ, হাত-পা ও পিঠজুড়ে বড় বড় ফোসকা, ঘা ও খসখসে ত্বক ছড়িয়ে পড়েছে। দিন-রাত তীব্র যন্ত্রণায় শিশুটির কান্না যেন থামতেই চায় না। তানিয়ার বাবা আল-আমিন হাওলাদার বলেন, তিনি একজন দিনমজুর। মেয়ের এই কষ্ট আর সহ্য করতে পারছেন না। ডাক্তার অনেক টাকার প্রয়োজন বললেও তার পক্ষে তা জোগাড় করা সম্ভব নয়। তিনি মেয়ের জীবন বাঁচাতে সমাজের দয়ালু মানুষের কাছে হাতজোড় করে সহায়তা চেয়েছেন।
মা নয়নী বেগম জানান, মেয়ে জন্মের পর থেকেই অসুস্থ। সামর্থ্য না থাকায় ভালো চিকিৎসা করাতে পারছেন না। নানী শাহিনুর বেগম বলেন, যন্ত্রণার কারণে শিশুটিকে ঠিকমতো গোসল করানো যায় না, শরীরে সাবান বা শ্যাম্পুও লাগানো যায় না। সারা রাত চুলকানির কারণে সে ঘুমাতেও পারে না।
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা জানান, শিশুটির পরিবারকে একটি লিখিত আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আবেদন পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে এলে ছোট্ট তানিয়ার চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে। একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে মানবিক সহায়তার আকুতি জানিয়েছে তার পরিবার।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :